নন্দীগ্রাম, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের দিন এখনও কয়েক সপ্তাহ দূরে। কিন্তু নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার সেই ভোটের অঙ্কটাকেই যেন সামনে এনে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা সরকারের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এটাই ‘শেষ সুযোগ’। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে তিনি কার্যত ‘পরীক্ষা’ বলে ব্যাখ্যা করলেন। একই সঙ্গে দাবি করলেন, বিজেপি নন্দীগ্রামে এমন ব্যবধানে জিতবে, যা ‘কেউ কল্পনাও করতে পারবে না’।
শুভেন্দুর কথায়, ‘‘নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘুদের জন্য বললাম, এটাই আপনাদের শেষ সুযোগ। সরকার-মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যদি থাকতে চান, হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চান, কাজ নিতে চান আপনাদের পরীক্ষা ৬ অক্টোবর। পাশ করবেন না ফেল করবেন, সেটা আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম। বাকি আমরা তো জিতছি, জিতব।’’
এর পরেই আরও এক ধাপ এগিয়ে তাঁর দাবি, ‘‘ভোট করতে আমরা জানি, ভোট করাতেও আমরা জানি। বিজেপি এমন মার্জিনে জিতবে, যা কেউ কল্পনা করতে পারবে না। সংখ্যালঘুরা ঠিক করুন কার সঙ্গে থাকবেন।’’
কেন এই বারবার সংখ্যালঘু ভোটের প্রসঙ্গ? রাজনৈতিক অঙ্ক বলছে, নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর দুই আসনেই এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ। রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোটারের অনুপাত প্রায় ৭০ শতাংশ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে বিজেপি প্রার্থীকে ৫৮,৮৭৬ ভোটে হারিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। ফলে উপনির্বাচনে আসনটির ফলাফলে সংখ্যালঘু ভোটের ভূমিকা নিয়ে জল্পনা স্বাভাবিক।
নন্দীগ্রামের ছবিটিও আলাদা নয়। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে সংখ্যালঘু ভোটারের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের পরিসংখ্যান ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ফলে বিজেপির পক্ষে হিন্দু ভোটের বড় অংশ যাওয়ার সম্ভাবনার পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে ঝোঁকে, সেটিই ব্যবধানের অঙ্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
এই আবহেই সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দুর সরাসরি বার্তা রাজনৈতিক তাৎপর্য বাড়িয়েছে। এক দিকে উন্নয়ন ও সরকারের সঙ্গে থাকার আহ্বান, অন্য দিকে ভোটকে ‘পরীক্ষা’ হিসেবে তুলে ধরা দুই সুরই ছিল তাঁর বক্তব্যে।
৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোট। তার আগে প্রচারের ময়দানে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, মঙ্গলবারের বার্তায় তারই ইঙ্গিত মিলল। এখন দেখার, শুভেন্দুর ‘শেষ সুযোগ’-এর ডাক ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।





