শীতলকুচি, ২৬ অক্টোবরঃ পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিতে দূর রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন। ভেবেছিলেন, পরিবারের সঙ্গে কয়েকটা দিন কাটাবেন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটবে হাসি-আড্ডায়। কিন্তু উৎসবের সেই আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল শোকে। বন্ধুদের সঙ্গে মানসাই নদীতে স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে মৃত্যু হল শীতলকুচির এক পরিযায়ী শ্রমিকের। বিজয় বর্মনের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভাঐরথানা এলাকায়। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যেরা।
ঘটনাটি শীতলকুচি ব্লকের ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতের নিউ ভাঐরথানা এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির কাছেই মানসাই নদীতে স্নান করতে গিয়েছিলেন বিজয়। স্নানের সময় আচমকাই নদীর গভীর জলে তলিয়ে যান তিনি। বন্ধুরা তাঁকে দেখতে না পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের আওয়াজ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। দীর্ঘ চেষ্টার পরে নদী থেকে উদ্ধার করা হয় বিজয়কে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।
পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি তাঁকে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা বিজয়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। যে বাড়িতে কয়েক দিন আগেও পুজোর আনন্দে মুখর ছিলেন পরিবারের সদস্যেরা, সেখানেই এখন শুধুই কান্না আর শূন্যতা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসারের আর্থিক অনটন মেটাতে কেরালায় পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন বিজয়। রোজগারের টানে বাড়ি থেকে দূরে থাকতে হত তাঁকে। তবে পুজোর সময় বাড়ি ফেরার আনন্দ ছিল আলাদা। পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর আশাতেই উৎসবের মরসুমে নিজের এলাকায় ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ফেরা যে শেষ ফেরা হয়ে থাকবে, তা ভাবতে পারেননি কেউই। বিজয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তাঁর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
স্থানীয়দের কথায়, পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দূর রাজ্যে পরিশ্রম করতেন ওই যুবক। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ল। পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিতে বাড়ি ফেরা যুবকের এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না এলাকার মানুষ। এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা পরিমল বর্মন। বিজয়ের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ।





