খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৭ মার্চঃ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া সম্প্রদায়ের বিপুল সমর্থন পেয়েছিল বিজেপি। সেই ভরসাতেই রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক। তবে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর ইস্যুকে ঘিরে সেই সমীকরণে ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বস্তির নয়, তা কার্যত স্বীকার করলেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।
শুক্রবার গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স-এর এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে এই প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই শান্তনু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য হল অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলিমদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। একই সঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
তবে এতদিন যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের অনেকের নাম কেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে যান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবিতে কেন্দ্র কাজ করছে এবং একজন মতুয়াকেও বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে না। সকলেই নাগরিকত্ব পাবেন বলেই আশ্বাস দেন তিনি। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও মন্তব্য করতে চাননি শান্তনু। তিনি জানান, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ মহকুমার চারটি কেন্দ্রেই জয় পেয়েছিল বিজেপি। নাগরিকত্বের প্রত্যাশায় বিপুল সংখ্যক মতুয়া ভোটার পদ্ম শিবিরকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, বর্তমানে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ভোটারদের একটি বড় অংশই মতুয়া সম্প্রদায়ের।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এতদিন নাগরিকত্বের আশ্বাসে যে সমর্থন বিজেপি পেয়েছিল, সেই মতুয়া ভোটের বড় অংশ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বনগাঁ অঞ্চলের বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে এই নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।





