খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩ ফেব্রুয়ারি: এসআইআর ইস্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআরের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিজনদের দিল্লির বঙ্গভবনে হেনস্থার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার কালো পোশাক পরে অবস্থানে বসেন তাঁরা। সেখানেই সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এসআইআরের নামে বাংলায় কার্যত “সুপার এমার্জেন্সি” চলছে। তাঁর কথায়, “মানুষ বিচার চাইতে চাইতে ক্লান্ত। কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বাংলায় গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে।” নাম না করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, চেয়ার স্থায়ী নয়, মানুষ স্থায়ী।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। “বারবার চিঠি দিয়েছি, কোনও উত্তর পাইনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানা হচ্ছে না। তাই ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লিতে এসেছিলাম। অথচ দিল্লি পুলিশ দিয়ে আমাদের হেনস্থা করা হল,” বলেন তিনি। দিল্লিতে বসেই বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ তুলে মমতার স্পষ্ট বার্তা, “বাংলার মানুষের জন্য কেউ না লড়লেও আমি লড়ে যাব।”
কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে একসঙ্গে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দিল্লির জমিদাররা ভোটারের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রের মতো কমিশনকে ব্যবহার করে বাংলায় ভোটের নামে প্রহসন করতে দেব না।” এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তাড়াহুড়োর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিযোগ, এআই-এর অপব্যবহার করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপিন্সি’র নামে জীবিত মানুষকে মৃত দেখানো হচ্ছে এবং বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ছে।
সোমবার বঙ্গভবনে তল্লাশির নামে দিল্লি পুলিশের তৎপরতা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “বঙ্গভবন ঘিরে ফেলা হয়েছে, ঘরে ঘরে সার্চ চলছে। এখানে বাংলার মানুষ থাকেন, এটা আমাদের ভবন ওরা এটা করতে পারে না।” পাশাপাশি দেশজুড়ে বাঙালিদের বাংলাদেশি সন্দেহে নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন তিনি। বাজেট নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, “সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই নেই। ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে।”





