খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৪ ফেব্রুয়ারিঃ নজিরবিহীন দৃশ্য সুপ্রিম কোর্টে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলায় বুধবার নিজেই সওয়াল করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবী হিসেবে নয়, বরং ‘পার্টি ইন পার্সন’ হিসেবে বাংলার মানুষের হয়ে আদালতের সামনে নিজের বক্তব্য রাখলেন তিনি। প্রায় তিন দশক পর ফের আদালতে সওয়াল করার কথা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, এদিন সেই কথাই বাস্তবে রূপ নিল।
বুধবার দুপুরে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হওয়ার সময় থেকেই আইনজীবীদের পাশের সামনের সারিতে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দায়ের করা মামলায় সওয়াল করছিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান। সওয়াল-জবাব চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই পাঁচ মিনিট সময় চেয়ে নেন বক্তব্য রাখার জন্য। বিচারপতিরা সেই অনুমতি দেন।
বক্তব্য রাখতে উঠে মমতা বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের হয়ে বলছি। এসআইআর পদ্ধতির মাধ্যমে নাম বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। কোথাও কোনও মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, অন্যত্র চলে গিয়েছেন তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। কেউ অন্য জায়গায় ফ্ল্যাট কিনে উঠে গেলেও নাম বাদ পড়ছে। আমরা চাই, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়।”
অভিমানী সুরে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচন কমিশনকে তিনি ছ’টি চিঠি লিখেছেন, কিন্তু একটিরও উত্তর পাননি। তাঁর কথায়, “আমি হয়তো খুব গুরুত্বপূর্ণ নই। আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে। সুবিচারের জন্য কাঁদছি।”
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগও তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আধার কার্ড গ্রহণ করা হচ্ছে না। ভোটের মুখে তাড়াহুড়ো করে এই কাজ হচ্ছে। নাম বাদ পড়ছে, কিন্তু নাম যুক্ত করার প্রক্রিয়া নেই।” পাশাপাশি অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে মাইক্রো অবজার্ভার পাঠিয়ে নাম ডিলিট করা হচ্ছে। কটাক্ষ করে বলেন, “ইলেকশন কমিশন এখন হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন হয়ে গিয়েছে।”
মমতার দাবি, শুধুমাত্র বাংলার ক্ষেত্রেই নিয়ম ভেঙে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে এবং প্রায় ৫৯ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর শেষ আবেদন ছিল, “মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রত্যাহার করুন। গণতন্ত্রকে বাঁচান।” এই ব্যতিক্রমী সওয়াল ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।





