নয়াদিল্লী, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ রাজ্যে পালাবদলের পর বদলে গিয়েছে তৃণমূলের রাজনৈতিক সমীকরণও। সেই আবহেই ফের দিল্লির রাজনীতিতে সক্রিয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কনস্টিটিউশন ক্লাবে বসা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিলেন দু’জনেই। আলোচনার কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের পরবর্তী পদক্ষেপ।
মমতা-অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন। অন্য দিকে কংগ্রেস, বাম এবং একাধিক আঞ্চলিক দলের নেতারাও বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। বিরোধী শিবিরের সূত্রে খবর, এসআইআর নিয়ে যৌথ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা এবং জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে সংসদীয় পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে বৈঠকের ছবিতে যেমন একাধিক বিরোধী দলকে পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, তেমনই অনুপস্থিতির তালিকাও নজর কাড়ছে। আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে বৈঠকে নেই। সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবও নিজে উপস্থিত থাকছেন না; তাঁর দল থেকে প্রতিনিধি যোগ দেওয়ার কথা। উদ্ধব ঠাকরের দলও ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভিতরের সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।
বাংলার রাজনীতির দিক থেকে এই বৈঠকের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূলের সামনে এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সংগঠন ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার প্রশ্ন। সেই সময়েই দিল্লিতে জাতীয় স্তরের বিরোধী মঞ্চে মমতা ও অভিষেকের উপস্থিতি দেখাচ্ছে, রাজ্যের বাইরেও তৃণমূল তার রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
এদিকে এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি নতুন নয়। কংগ্রেস-সহ একাধিক দল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার স্বাভাবিক অংশ এবং তাদের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হয়।
তাই বুধবারের বৈঠক শুধু এসআইআর-নির্ভর কোনও তাৎক্ষণিক কর্মসূচির বৈঠক নয়। রাজ্যের ভোট-পরবর্তী নতুন সমীকরণের মধ্যেও জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলির সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেই প্রশ্নেরও একটি পর্ব এই বৈঠক।





