মুর্শিদাবাদ, ৩ ফেব্রুয়ারিঃ মনের মধ্যে ভয় আর আতঙ্ক যেন গেঁথে গিয়েছিল। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলেই বাবা-মা তার বিয়ে দেবে এই আশঙ্কাই এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কিশোরীকে ঠেলে দিয়েছিল চরম সিদ্ধান্তের দিকে। পরীক্ষার হলে না গিয়ে সে চলে যায় গঙ্গার ঘাটে, আর সবার সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। যদিও স্থানীয়দের তৎপরতায় সময় থাকতেই উদ্ধার হয় সে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরী ফরাক্কার নিউ ফরাক্কা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তার পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছিল নয়নসুখ গ্রাম পঞ্চায়েতের স্বর্ণময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে। বাড়ি মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানার টাউনশিপ মোড়ে। মঙ্গলবার ছিল ইংরেজি পরীক্ষা। এদিন সকালেই বাড়ি থেকে পরীক্ষা দিতে বেরিয়েছিল সে, কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রে না গিয়ে পৌঁছে যায় নয়নসুখের ব্রাহ্মণনগর গঙ্গার ঘাটে।
ঘাটে উপস্থিত স্থানীয়দের সামনেই সে গঙ্গায় ঝাঁপ দেয়। নয়নসুখ অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি লালু শেখের তৎপরতায় দ্রুত উদ্ধার করা হয় তাকে। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছন ফরাক্কা থানার আইসি সুজিত পাল। উদ্ধারের পর কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই ছাত্রী। আইসি সুজিত পাল পরম স্নেহে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
কিছুটা শান্ত হওয়ার পর কিশোরী জানায়, মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলেই পরিবার জোর করে তার বিয়ে দিতে চায়। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের কেউ তার কথা শুনছে না। সেই ভয় থেকেই তার কাছে গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়া সহজ মনে হয়েছিল।
এই কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান উপস্থিত সকলেই। আইসি সুজিত পাল কিশোরীকে স্পষ্ট জানান, সে নাবালিকা এখন তার বিয়ে দেওয়া আইনত সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ব নিচ্ছি তোমার। তুমি নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দাও।” শুধু আশ্বাসেই থামেননি তিনি। মেয়েটির বাড়িতে ফোন করে বাবা-মাকে থানায় এসে কথা বলার নির্দেশ দেন।
পরে পুলিশের উদ্যোগেই ওই ছাত্রীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, সে শেষ পর্যন্ত ইংরেজি পরীক্ষায় বসেছে। মানবিকতার এই ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয়রা।





