বারুইপুর, ২ জানুয়ারিঃ ভোটার তালিকার খসড়া সংশোধন নিয়ে ফের সরব তৃণমূল। জ্যান্ত মানুষকে ‘মৃত’ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে সামনে রেখে শুক্রবার বারুইপুরের প্রচারসভায় অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভামঞ্চে তৈরি করা হয় বিশেষ একটি ব়্যাম্প, যেখানে দাঁড় করানো হয় সেই সব মানুষদের, যাঁদের কমিশনের খাতায় ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
ভাষণের মাঝেই ব়্যাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে অভিষেক বলেন, “অনেকে ভাবছেন এই ব়্যাম্প কেন। আজ এখানে তিন জন ‘ভূত’ হাঁটবে। কমিশন যাঁদের মৃত বলেছে, তাঁরা আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে।” এরপর মঞ্চে ওঠেন মনিরুল ইসলাম মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি ও মায়া দাস। তাঁদের দেখিয়ে জনতার উদ্দেশে অভিষেক প্রশ্ন করেন, “দেখতে কি মৃত মনে হচ্ছে? এঁরা জ্যান্ত, কিন্তু কমিশন নাকি দেখতে পাচ্ছে না!” তিনি জানান, দু’জন মেটিয়াবুরুজ ও একজন কাকদ্বীপের বাসিন্দা।
এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের উপর আঘাত বলে দাবি করে অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দেন, “আমরা একজনের নামও কাটতে দেব না। তৃণমূল দিল্লিতে যাবে, নেতৃত্ব দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশন ও কেন্দ্র একসঙ্গে থাকলেও বাংলার ভোটের জলোচ্ছ্বাসে সবাই ভেসে যাবে।”
আগামী ১৯ দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ২৬টি সভা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগণা থেকেই প্রচারের সূচনা প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “কালীঘাট আমার জন্মভূমি, দক্ষিণ ২৪ পরগণা আমার কর্মভূমি। পালাবদলের ইতিহাস এখান থেকেই শুরু হয়েছিল, তাই ছাব্বিশের লড়াইও এখান থেকেই।”
বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “এটা শুধু ভোট নয়, মানুষের বাঁচা-মরার লড়াই। তৃণমূল মানে দু’মুঠো ভাত, বিজেপি মানে ধর্মে ধর্মে আঘাত।” চাকরি, মূল্যবৃদ্ধি ও হিংসার প্রসঙ্গ টেনেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত সাংসদ-অভিনেত্রী সায়নী ঘোষও বলেন,“যতই ইডি-সিবিআই-এসআইআর আনুন, বাংলা ছাব্বিশেও মমতারই থাকবে।”





