কলকাতা, ৯ অক্টোবরঃ ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর নিয়োগ ঘিরে বিতর্কে ফের নতুন মোড়। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) প্রকাশিত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ৩৪ জন প্রার্থী। মামলাকারী সোমা মিদ্যা-সহ ওই প্রার্থীদের বক্তব্য, এক বার পূর্ণাঙ্গ মেধাতালিকা এবং অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশিত হয়ে গেলে, নতুন করে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে চলতি সপ্তাহেই মামলাটির শুনানি হতে পারে।
মামলাকারীদের হয়ে আইনজীবী আশিসকুমার চৌধুরীর যুক্তি, সরকারি নিয়োগে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কোনও কারণে প্রার্থীদের নাম বাদ পড়লে, অপেক্ষমাণ তালিকা থেকেই শূন্যপদ পূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তাঁর দাবি, ইন্টারভিউ শেষ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তার পরেও নতুন করে ইন্টারভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্তে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৬ হাজার পদে নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৯ মে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল এসএসসি। সেই প্রক্রিয়া এগোনোর পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর সংশোধিত তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশের পর নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে নিয়ে ফের ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করলে অন্যদের নিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।
এরই মধ্যে ওবিসি তালিকা সংশোধনের প্রভাবও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পড়েছে বলে দাবি প্রার্থীদের একাংশের। নবম-দশমের আবেদনপত্র সংশোধনের জন্য ৭ থেকে ১১ অক্টোবর সময় দিয়েছে কমিশন। অন্য দিকে, একাদশ-দ্বাদশের ইন্টারভিউও শুরু হয়েছে। এখন নজর হাই কোর্টের দিকে। এসএসসির সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে আদালত কী অবস্থান নেয়, তার উপর নির্ভর করতে পারে নিয়োগপ্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ।





