খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১ জানুয়ারি: নির্বাচনী বছরে পা দিতেই রাজনৈতিক লড়াইয়ে আগাম প্রস্তুতি শুরু করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে এসআইআরের মাধ্যমে বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে এই অভিযোগকে সামনে রেখে গোটা জানুয়ারি মাস জুড়ে রাজ্যজুড়ে কর্মসূচির ঘোষণা করল শাসক দল। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপির এই ‘ভুল চাল’ শাপে বর হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ এর ফলে ভোটের অনেক আগেই দলের কর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছেন।
আজ, ১ জানুয়ারি, দলের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় কালীঘাটে এবং ১০টায় বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূল ভবনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। একই দিনে সায়েন্স সিটির কাছে পুরনো তৃণমূল ভবনে প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান করেন রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকেই এসআইআর ইস্যুকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তির্যক মন্তব্য করে বিজেপিকে আক্রমণ শানায় তৃণমূল।
শুধু এসআইআর নয়, নতুন বছরে তৃণমূলের আরেক বড় হাতিয়ার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান। ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ নামে এই প্রচার জানুয়ারি মাসজুড়ে ব্লক ও অঞ্চল স্তরে চালানো হবে। তৃণমূলের দাবি, এই দুই ইস্যুই আগামী ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে মূল অস্ত্র হয়ে উঠবে।
এছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার মনীষীদের অপমান করার অভিযোগ তুলে তাঁদের জন্ম ও মৃত্যুদিবস আরও মর্যাদার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন সুব্রত বক্সি। ১ থেকে ৭ জানুয়ারি গান্ধীজি, নেতাজি, বিবেকানন্দ, বি আর আম্বেদকর-সহ একাধিক মনীষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। ১২ জানুয়ারি বিবেকানন্দের জন্মদিন, ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনে ব্লক, ওয়ার্ড ও অঞ্চল স্তরে সুভাষ উৎসবের আয়োজন করা হবে। ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস এবং ৩০ জানুয়ারি গান্ধীজির প্রয়াণ দিবস শহিদ দিবস হিসেবে পালনের কথাও জানানো হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, যেখানে সাধারণত নির্বাচনের এক-দু’মাস আগে দলীয় ‘ইলেকশন মেশিনারি’ সক্রিয় হয়, সেখানে বিজেপির এসআইআর ইস্যু সেই প্রক্রিয়াকে অনেক আগেই শুরু করে দিয়েছে। বিপরীতে বিজেপির রাজ্য সংগঠন এখনও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি। এই প্রসঙ্গে জয়প্রকাশ মজুমদারের মন্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেস এখন মনেপ্রাণে ও প্রস্তুতিতে সামনের লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি তৈরি।”





