কোচবিহার, ২০ সেপ্টেম্বরঃ সকালে সাগরদিঘির পাড়ে চায়ের কাপে চুমুক। সঙ্গে রাজ্যের রাজনীতি নিয়ে একের পর এক তির। কোচবিহারে এসে ‘চায়ে পে চর্চা’-র আসর থেকেই তৃণমূলকে নিশানা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, “এক সপ্তাহ সময় লাগল না, একটি পার্টি শেষ হয়ে গেল।”
আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার পঞ্চায়েত দফতরের কাজের পর্যালোচনা করতে শনিবার জেলায় পৌঁছন দিলীপ। রবিবার সকালে সাগরদিঘির পাড়ের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। শুরুতেই বলেন, “এখানকার মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছি।” তারপরই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় তাঁকে।
উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েনের প্রসঙ্গ উঠতেই দিলীপের দাবি, দলের ভাঙন ও অস্থিরতা থেকেই বর্তমান পরিস্থিতির ছবি স্পষ্ট। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধান্দা, অর্থ উপার্জন এবং দুর্নীতির রাজনীতি বাংলাকে কলুষিত করেছে। মানুষ সুযোগ পেয়ে তার জবাব দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিরোধীদের একাংশ এখনও রাজনৈতিক ভাবে সরব থাকলেও তাতে বিশেষ লাভ হবে না এমনই মন্তব্য তাঁর।
তবে কোচবিহারের সফরের রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি মন্ত্রীর নজরে ছিল পঞ্চায়েতের কাজকর্মও। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের কাজের অগ্রগতি নিয়ে এদিন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। তার আগেই আগের সরকারের আমলে পঞ্চায়েত দফতরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কড়া বার্তা দেন মন্ত্রী।
দিলীপ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং আগামী দিনেও তা চলবে। ইতিমধ্যে কয়েক জন গ্রেফতার হয়েছেন বলেও দাবি তাঁর। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
অর্থাৎ, সাগরদিঘির পাড়ে এক কাপ চা ঘিরে আড্ডা হলেও মন্ত্রীর কথায় উঠে এল রাজ্যের প্রশাসন থেকে উপনির্বাচন দুই ময়দানই। কোচবিহারে দিলীপের ‘চায়ে পে চর্চা’ তাই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক বার্তার মঞ্চও।





