বর্ধমান, ২৪ জানুয়ারিঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া(এসআইআর)ঘিরে হয়রানির অভিযোগ তুলে শনিবার বর্ধমান রেল স্টেশনে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বারবার শুনানির নামে ডেকে হেনস্তা করা হচ্ছে এই অভিযোগে ফেটে পড়েন তাঁরা। বিক্ষোভ ক্রমেই রেল অবরোধে পরিণত হওয়ায় বেশ কিছু লোকাল ট্রেন আটকে পড়ে, চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ জাতীয় পতাকা হাতে বর্ধমান স্টেশনে প্রবেশ করেন। প্রথমে স্টেশনের ভিতরে স্লোগান ও বিক্ষোভ চললেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ রেল লাইনে নেমে শুয়ে পড়েন। এর জেরে আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। রেল সূত্রে জানা গেছে, আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কয়েকটি লোকাল ট্রেন বিভিন্ন জায়গায় আটকে থাকে।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, “আমরা এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। বাংলাদেশি ধরার নামে আমাদের বারবার ডাকা হচ্ছে, নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। একই কাগজপত্র বারবার দেখাতে হচ্ছে। এই অন্যায় আমরা মানব না।” তাঁদের অভিযোগ, এসআইআর শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে অযথা ভয় দেখানো হচ্ছে এবং হয়রানি করা হচ্ছে।
বিক্ষোভের জেরে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। কেউ অফিসে যাওয়ার পথে, কেউ চিকিৎসার প্রয়োজনে আটকে পড়েন স্টেশনে ও ট্রেনে। এক যাত্রী বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়ায় যদি সত্যিই মানুষকে হয়রানি করা হয়, তার প্রতিবাদ হওয়া উচিত। কিন্তু রেল অবরোধ করে সাধারণ যাত্রীদের সমস্যায় ফেলা ঠিক নয়।” যাত্রীদের একাংশ বিক্ষোভের কারণের সঙ্গে সহমত পোষণ করলেও, অবরোধের পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
খবর পেয়ে বর্ধমান জিআরপি, আরপিএফ এবং জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘ আলোচনার পর বিক্ষোভকারীরা রেল লাইন থেকে সরে যান। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এসআইআর প্রক্রিয়া ও শুনানি কেন্দ্র ঘিরে ভোটারদের হয়রানির অভিযোগে একের পর এক বিক্ষোভ হয়েছে। ফরাক্কা, চাকুলিয়া-সহ একাধিক এলাকায় প্রতিবাদ ছড়িয়েছে। কোথাও কোথাও তা হিংসাত্মক রূপও নিয়েছে। আগুন লাগানো, ভাঙচুর, এমনকি বিডিও অফিসে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সেই তালিকায় এবার বর্ধমানের নাম যুক্ত হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।





