কোচবিহার, ২৮ এপ্রিলঃ বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহার জেলার সরকারি কর্মীদের একাংশের অভিজ্ঞতা নতুন করে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রায় ৩৫০ জন কর্মীকে হঠাৎ করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অথচ তাঁরা অবস্থান করছিলেন কোচবিহার-এ, যা কলকাতা থেকে প্রায় ৭১৩ কিলোমিটার দূরে।
সূত্রের খবর, সোমবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে ইমেল পৌঁছয়, যেখানে জানানো হয় মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে নির্দিষ্ট ডিসিআরসি কেন্দ্রে রিপোর্ট করতে হবে। অথচ তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যেই প্রথম দফার ভোটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নতুন করে দ্বিতীয় দফার দায়িত্ব পাওয়ায় এবং এত অল্প সময়ে যাত্রা করার নির্দেশে বিপাকে পড়েন কর্মীরা।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মুশকিল আসানের আশায় জেলাশাসকের দপ্তরে যান। কিন্তু অভিযোগ, সেখান থেকে তেমন সহায়তা না মেলায় নিজেদের উদ্যোগেই যাত্রার ব্যবস্থা করতে বাধ্য হন তাঁরা। কেউ ট্রেন, কেউ বাস যেভাবে সম্ভব রওনা দেন দক্ষিণবঙ্গের উদ্দেশ্যে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা, প্রায় ৩০ জন সরকারি কর্মী মিলে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে তিন দিনের জন্য একটি ভলভো বাস ভাড়া করেন। সোমবার সন্ধ্যায় সেই বাসে চেপে তাঁরা উত্তর ২৪ পরগনার দিকে রওনা দেন। ভোটের কাজ শেষ হওয়ার পর একই বাসে ফেরার পরিকল্পনাও করেছেন তাঁরা।
একজন ভোটকর্মীর কথায়, “ভোটের ডিউটির জন্য দেড় থেকে দু’হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। অথচ যাতায়াত ও খাওয়াদাওয়ার খরচ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। এত কম সময়ে এত দূরে পৌঁছনো কার্যত অসম্ভব ছিল।” তিনি আরও বলেন, অন্তত দু’দিন আগে জানানো হলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সময়মতো পৌঁছনো নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মী রাতভর যাত্রা করে নির্ধারিত কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। অতিরিক্ত জেলাশাসক দীননারায়ণ ঘোষ জানান, রবিবার রাতেই নির্বাচন কমিশন থেকে ডিউটির নির্দেশ আসে এবং তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। তিনি দাবি করেন, কর্মীদের জন্য আরটিও-র মাধ্যমে দুটি গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল, যদিও পরে কেউ যোগাযোগ করেননি।
তবে কর্মীদের একাংশ এই দাবিকে মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, এত বড় সংখ্যক কর্মীর জন্য মাত্র দুটি গাড়ি কোনওভাবেই যথেষ্ট নয়। ফলে বাস্তবে তাঁদের নিজেদেরই ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফার ভোট ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ মে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই ঘটনার জেরে প্রশাসনিক সমন্বয়, পরিকল্পনা এবং কর্মীদের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।





