কলকাতা, ২৯ এপ্রিলঃ দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে ইভিএম কারচুপির অভিযোগে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা অভিযোগ করেন, একাধিক বুথে ইভিএম মেশিনের নির্দিষ্ট বোতামে সেলোটেপ লাগিয়ে তা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে না পারেন। তাঁর দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই তৎপর হয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে এবং অবজারভারদের পাঠানো রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেখানে ইভিএমে টেপ লাগানোর প্রমাণ মিলবে, সেখানে পুনর্নির্বাচন করা হবে। এমনকি যদি একাধিক বুথে একই অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত একটি বুথ থেকেই এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী -র সঙ্গে ফোনে কথা বলে ঘটনার খোঁজ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
উল্লেখ্য, ফলতা কেন্দ্রটি তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের প্রভাব বলয়ে পড়ে। ভোটের আগেই এলাকায় উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছিল। তার মধ্যেই এই ইভিএম বিতর্ক নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে।
সবমিলিয়ে, অবজারভারদের রিপোর্টের উপরই এখন নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





