কলকাতা, ২৯ এপ্রিলঃ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বুধবার সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়া এই জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে এই ১৪২টি কেন্দ্রে প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যেখানে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লক্ষ ভোটার অংশ নিয়েছিলেন। তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর ফলে প্রায় ১৮ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে বর্তমানে এই কেন্দ্রগুলিতে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২১ লক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আত্মবিশ্বাসের সুর স্পষ্ট। দলের এক রাজ্যসভার সাংসদ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় দাবি করেছেন, বিজেপির হার কার্যত নিশ্চিত। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর মন্তব্য নিয়েও কটাক্ষ। তিনি বলেন, ভোটের ফল ঘোষণার পরও কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় থাকবে এই বার্তাই প্রমাণ করে বিজেপি নিজেদের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত নয়।
তৃণমূল সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, বিজেপির একাধিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেও তাদের অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। অন্যদিকে, শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, এই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটার মমতা ব্যানার্জি-এর পক্ষেই রায় দেবেন।
রাজনৈতিক জল্পনা আরও বাড়িয়েছে একটি নতুন তথ্য। সূত্রের খবর, সমাজবাদী পার্টি, এনসিপি (শরদ পাওয়ার), আম আদমি পার্টি, আরজেডি এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতো বিজেপি-বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তবে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে তারা।
সবমিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হওয়ার আগেই ফল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।





