খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বরঃ রবিবার সাতসকালে ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াল গ্রামে। বাড়ির সামনেই অজানা একটি জন্তুর আক্রমণে গুরুতর জখম হলেন সুবর্ণ রানী দে নামে এক মহিলা। একই সঙ্গে ওই জন্তুর হামলায় জখম হয়েছে একাধিক গবাদি পশুও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, ওই অজানা জন্তুটি আসলে একটি বাঘ।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এদিন ভোরে সুবর্ণ রানী দে বাড়ির সামনে বাঁধা ছাগলগুলিকে খাবার দিচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই ঝোপঝাড়ের দিক থেকে একটি বড় আকারের জন্তু ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর উপর। মুহূর্তের মধ্যেই মহিলা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে জন্তুটি দ্রুত পালিয়ে যায়। হামলার সময় ছাগল-সহ কয়েকটি গবাদি পশুকেও আঘাত করে ওই জন্তু।
রক্তাক্ত অবস্থায় সুবর্ণ রানী দে-কে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত রয়েছে, তবে আপাতত তিনি আশঙ্কামুক্ত।
ঘটনার খবর পেয়েই বনদপ্তরে জানানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বনদপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁরা এলাকাটি ঘুরে দেখেন এবং গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না জন্তুটি বাঘ কি না, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয় এবং সাধারণ মানুষকে একা বাইরে না বেরোনো, বিশেষ করে ভোর ও সন্ধ্যার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এদিন বনদপ্তরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জখম মহিলার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হবে এবং বনদপ্তরের টহল জোরদার করা হবে।
যদিও প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও আতঙ্ক কাটেনি গ্রামবাসীদের। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ওই জন্তুটিকে চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে।





