কলকাতা, ২ আগস্টঃ জোড়াফুল থাকবে, না অন্য কোনও ফুল? নির্বাচন কমিশনের রায়ের আগে তৃণমূলের অন্দরে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্নই। দল ভাঙনের পর কালীঘাট শিবির ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির উভয়েই নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করেছে। সেই আবহেই সামনে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘প্ল্যান বি’-এর ইঙ্গিত।
দলীয় সূত্রের দাবি, জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হলেও রাজনীতির ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই নেই। বরং নতুন কোনও ফুলের প্রতীক নিয়েই লড়াই চালানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে জোড়াফুল প্রতীক ধরে রাখতে আইনি লড়াইয়ের রাস্তাও খোলা রাখছে কালীঘাটপন্থী শিবির। যদিও সম্ভাব্য নতুন প্রতীক কী হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তৃণমূলের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা, আর মমতা মানেই তৃণমূল। প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের আসল পরিচয়।” তাঁর মতে, প্রতীক প্রশাসনিক প্রয়োজন, কিন্তু রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার মূল ভিত্তি নেতৃত্ব।
১৯৯৭ সালে দল প্রতিষ্ঠার সময় ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক বেছে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রতীকেই দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল এবং টানা তিনবার সরকার গঠন করে। ফলে জোড়াফুল শুধু নির্বাচনী প্রতীক নয়, দলের আবেগ ও পরিচয়েরও অংশ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এদিকে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের কাছেই সাংগঠনিক ও আইনসভায় সমর্থনের তথ্য-প্রমাণ চেয়েছে। কালীঘাট শিবির ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের তরফে এখনও সব কাগজ জমা পড়েনি বলেই খবর।
প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ের দাবি, কমিশনের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকেন। প্রতীক নিয়েও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।” এখন নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে, কারণ সেই রায়ই ঠিক করবে জোড়াফুলের ভবিষ্যৎ এবং বাংলার রাজনীতির পরবর্তী সমীকরণ।





