মনিরুল হক, কোচবিহার: মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর প্রথম বার কোচবিহারে। উত্তরবঙ্গ সফরের শুরুতেই তাই রাজনীতির মঞ্চ নয়, শুভেন্দু অধিকারীর পা পড়ল মদনমোহনের দরবারে। মঙ্গলবার দুপুরে কোচবিহার বিমানবন্দরে নামার পর সরাসরি শহরের ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন মন্দিরে যান মুখ্যমন্ত্রী। পুজো দিয়ে প্রার্থনা করেন। মন্দিরের দেবদেবীর কাছে প্রণাম করে শুরু হয় তাঁর কোচবিহার সফর। প্রশাসনিক বৈঠকের আগে এই মন্দির-পর্বেই যেন মিলল সফরের সাংস্কৃতিক সুরটিও।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম কোচবিহার সফর ঘিরে সকাল থেকেই ছিল বাড়তি কৌতূহল। বিমানবন্দর থেকে মদনমোহন মন্দির, সেখান থেকে প্রশাসনিক বৈঠকের সম্ভাব্য রুট সর্বত্রই ছিল কড়া নিরাপত্তা। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নজরদারিও বাড়ানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফর হলেও কোচবিহারের সঙ্গে শুভেন্দুর রাজনৈতিক যোগাযোগ অবশ্য পুরনো।
পুজো দিয়ে বেরিয়ে শুভেন্দু বলেন, কোচবিহারে এসে মদনমোহন বাবার মন্দিরে না এসে থাকা যায় না। একই সঙ্গে ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার মূর্তিতেও শ্রদ্ধা জানানোর কথা জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘কোচবিহার সফরে আসব, অথচ মদনমোহন বাবার মন্দির দর্শন করব না, ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার মূর্তিতে পুজো দেব না তা হয় না।’’
তবে মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি পেরিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল উন্নয়ন। কোচবিহার বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটাতে ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির কথা জানান তিনি। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডুর সঙ্গে আগামী ৮ তারিখে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কোচবিহারও সেই প্রকল্পের আওতায় থাকছে।
সময়ের হিসাবও বেঁধে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ৯ মে শপথ নিয়েছেন। ২০২৭ সালের ৯ মে-র মধ্যে কোচবিহারবাসীর প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। জমি চিহ্নিতকরণ, ডিপিআর তৈরি এবং অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কোচবিহারকে শুধু যোগাযোগের মানচিত্রে নয়, পর্যটনের মানচিত্রেও নতুন করে তুলে ধরার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘বিশ্ব গণ্ডার দিবস’-এর প্রসঙ্গ টেনে তরাই-ডুয়ার্সের একশৃঙ্গী গণ্ডার, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কোচবিহারের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে এক সূত্রে বেঁধে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনার কথা বলেন তিনি। রেল, বিমান ও সড়ক যোগাযোগের উন্নতির পাশাপাশি মানসম্পন্ন অতিথিশালা ও আবাসন তৈরির পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।
অতীতের রাজনৈতিক সংঘাতের স্মৃতিও এড়াননি মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর বার্তা পেছনের ঘটনা পেছনেই রেখে সামনে এগোতে হবে। ঈশ্বরের কৃপা এবং ‘গণদেবতা’, অর্থাৎ সাধারণ মানুষের আশীর্বাদকেই নিজের শক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কোচবিহার সফরে মদনমোহনের সামনে প্রণাম, তার পর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এই দুই ছবিকেই সামনে রেখে উত্তরবঙ্গ সফরের সূচনা করলেন শুভেন্দু। জানিয়ে গেলেন, রাসপূর্ণিমায় ফের কোচবিহারে আসবেন তিনি।





