রেজিনগর, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ রাজনীতিতে মতের বিরোধ থাকবে, আক্রমণ থাকবে, কটাক্ষও থাকবে। কিন্তু সেই রাজনৈতিক বাক্যুদ্ধই এ বার পৌঁছল ব্যক্তিগত আক্রমণের আরও এক চরম সীমায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে প্রকাশ্য সাংবাদিক বৈঠকে ‘মৃত্যুকামনা’ করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে হুমায়ুন বলেন, যত দ্রুত সম্ভব শুভেন্দু যেন পৃথিবী থেকে বিদায় নেন, সেই প্রার্থনাই তিনি করবেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘উপরওয়ালার কাছে দোয়া’ করার প্রসঙ্গ। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘অহংকার’ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি।
কেন এমন মন্তব্য? হুমায়ুনের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী ‘হাতির পাঁচ পা দেখেছেন’। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বলে জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গও টেনে আনেন হুমায়ুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পুরনো সংঘাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, দল থেকে বহিষ্কারের সময়ও তিনি মমতার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রার্থনা করেছিলেন। তাঁর দাবি, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই প্রার্থনা পূরণ হয়েছে।
এর পরেই দেশের কয়েক জন প্রয়াত রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের ভাষা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই মন্তব্যকে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে দেখা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে হুমায়ুনের পক্ষ থেকে পৃথক কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি।
শুভেন্দুকে আক্রমণ অবশ্য হুমায়ুনের কাছে নতুন নয়। এর আগেও নিজের বিধানসভা এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী গেলে তাঁকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। সেই মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর হয়েছিল। এ বার অবশ্য ব্যক্তিগত আক্রমণের মাত্রা আরও বেড়েছে।
রেজিনগর উপনির্বাচনে হুমায়ুনের ছেলে প্রার্থী। যদিও আগেই ছেলের প্রচার থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বিধায়ক। এ দিনের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কোনও জনপ্রতিনিধির এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।





