কলকাতা, ২৭ জুলাইঃ ছত্তিশগড়ে টায়ারের দোকানের কর্মী। পরে একটি ট্রাভেল এজেন্সির চাকরি। বাইরে থেকে দেখলে একেবারে সাধারণ জীবন। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, সেই চাকরির আড়ালেই গড়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক মানবপাচারের নেটওয়ার্ক। কাজের টোপ দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানো, আর সেই যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ভুয়ো পাসপোর্টের বন্দোবস্ত এই অভিযোগেই সোমবার দুর্গাপুরের নিউ স্টিল পার্ক থেকে গোলাম জামা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
সোমবার সকালে আচমকাই গোলামের ভাড়া বাড়িতে হানা দেয় এনআইএ-র একটি দল। প্রায় তিন ঘণ্টার তল্লাশির পর মুখ ঢেকে তাঁকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি, বিদেশে ঠিকা শ্রমিক পাঠানোর নামে দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। শুধু শ্রমিক জোগাড়ই নয়, তাঁদের বিদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জাল করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, গোলামের বাড়ি ছত্তিশগড়ে। সেখানে প্রথমে একটি টায়ারের দোকানে কাজ করতেন। পরে একটি পর্যটন সংস্থায় যোগ দেন। সেই সূত্রেই বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। প্রায় চার বছর আগে দুর্গাপুরে এসে বসবাস শুরু করেন তিনি। স্থানীয় এক মহিলাকে বিয়ে করে নিউ স্টিল পার্কে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে।
প্রতিবেশীদের দাবি, গোলাম খুব একটা মিশুক ছিলেন না। তবে মাঝেমধ্যেই মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে যাতায়াত করতেন বলে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকেই জানতে পেরেছিলেন তাঁরা। কেন এত বিদেশযাত্রা, সে বিষয়ে অবশ্য কোনও ধারণাই ছিল না কারও।
এদিন এনআইএ আধিকারিকেরা গোলামের স্ত্রীকেও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। স্বামী গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে দরজা-জানলা বন্ধ করে ঘরের ভিতরে চলে যান। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই চক্রে আর কারা জড়িত এবং কত জন শ্রমিককে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।





