কোচবিহার, ১২ ডিসেম্বর: ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা সামনে রেখে কোচবিহারে অনুষ্ঠিত হল এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক বৈঠক। শুক্রবার ল্যান্সডাউন হলে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ড. রামানুজ গাঙ্গুলি, কোচবিহার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের আধিকারিক, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের প্রতিনিধিরা, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের কর্তারা এবং জেলার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক–শিক্ষিকারা।
পর্ষদ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরই পরীক্ষা পূর্ববর্তী সময়ে প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার জন্য জেলার সঙ্গে বোর্ডের বৈঠক হয়ে থাকে। তবে এ বছরের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে। বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকরা পর্যালোচনা করেন—পরীক্ষাকেন্দ্র বৃদ্ধি, পরীক্ষা চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহণের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ইনভিজিলেটর মোতায়েন, সিসিটিভি নজরদারি, এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে বিশেষ সাহায্যপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা।
বৈঠক শেষে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ড. রামানুজ গাঙ্গুলি জানান, এ বছর কোচবিহার জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেড়েছে, যা শিক্ষাগত পরিকাঠামো ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়া অবশ্যই শিক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক লক্ষণ। তবে সেই সঙ্গে আমাদের পরীক্ষা পরিচালনার সমস্ত প্রস্তুতি আরও মজবুত করতে হবে। আমরা আজকের বৈঠকে তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করেছি।”
জেলা পর্যায়ের আধিকারিকরা জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিমধ্যেই প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রত্যেক কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, পানীয় জল, স্যানিটেশন এবং জরুরি অবস্থায় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নপত্র পরিবহণের গোপনীয়তা রক্ষায় কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা এদিন পরীক্ষা চলাকালীন অভিভাবকদের সহযোগিতা ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে পরীক্ষার দিনে স্কুলের বাইরে অযথা ভিড় না করার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর মাধ্যমিক পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, পর্ষদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির সমন্বয়ে প্রস্তুতি যে ইতিমধ্যেই জোরকদমে চলছে, শুক্রবারের বৈঠক তা স্পষ্ট করে দিল।





