কলকাতা, ২০ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা এখনও কলকাতার বুকে গভীর ক্ষত হয়ে রয়েছে। কী কারণে এমন ভয়াবহ বিপর্যয়, কার গাফিলতিতে এতগুলি প্রাণ গেল, তা খতিয়ে দেখতে বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কমিশনের নেতৃত্বে কর্মরত বিচারপতিকে নিয়োগের বিষয়ে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে দিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি আরএন ঘুগ। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী কর্মরত বিচারপতিকে এই ধরনের কমিশনে নিয়োগ করা সম্ভব নয়। তবে রাজ্য চাইলে অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারে।
চোরবাগান-কাণ্ডের তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে সোমবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লেখেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ওই চিঠিতে কমিশন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতেই তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব নিয়ে আইনি অবস্থান স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি।
মঙ্গলবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কোনও কর্মরত বিচারপতিকে তদন্ত কমিশনে নিয়োগ করা সম্ভব নয়। বিচারপতির সংখ্যা পর্যাপ্ত না থাকার বিষয়টিও এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তদন্ত কমিশন গঠনের পথ বন্ধ নয় বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি। রাজ্য সরকার নিজের পছন্দমতো অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে কমিশনের দায়িত্ব দিতে পারে।
ফলে চোরবাগান-কাণ্ডের তদন্তে কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে রাজ্যের সামনে বিকল্প পথ খুলে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে কমিশন কবে গঠিত হবে, কে তার নেতৃত্ব দেবেন এবং তদন্তের পরিধি কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গত শনিবার, সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে। বৃষ্টি ও ভিড়ের চাপে মণ্ডপের গেট ভেঙে পড়ে। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১৯ জনের। পুজোর মরসুমে কলকাতায় এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিপর্যয়ের পরই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিশন গঠনের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তদন্তে কলকাতা পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং কলকাতা পুরসভার কোনও প্রতিনিধি রাখা হবে না। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল বলে রাজ্য সরকারের বক্তব্য।
এখন নজর রাজ্যের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠিত হলে চোরবাগান-কাণ্ডের নেপথ্যে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার পথ তৈরি হতে পারে। ১৯টি মৃত্যুর দায় ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তদন্তের ফলই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।





