হরিশ্চন্দ্রপুর, ২০ অক্টোবরঃ ভিন্রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের তিন সদস্য। আচমকা নেমে এসেছে শোকের ছায়া, অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎও। মহারাষ্ট্রের নাশিকে পথ দুর্ঘটনায় হরিশ্চন্দ্রপুরের তিন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ তাঁদের গ্রাম। এই পরিস্থিতিতে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান। নিজের উদ্যোগে তিনটি পরিবারের হাতে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, অসহায় পরিবারগুলির জন্য পাকা বাড়ি তৈরির ব্যবস্থার আশ্বাসও দিয়েছেন বিধায়ক। অন্য দিকে, মৃতদেহগুলি মহারাষ্ট্র থেকে গ্রামে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার ভোরে রাস্তার কাজ সেরে ছোট গাড়িতে চেপে ফিরছিলেন ১৩ জন শ্রমিক। নাশিকের কাছে একটি ফ্লাইওভারের উপর তাঁদের গাড়ির সঙ্গে একটি বড় গাড়ির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের অভিঘাতে শ্রমিকবোঝাই ছোট গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে ফ্লাইওভার থেকে নীচের রাস্তায় পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় হরিশ্চন্দ্রপুরের আমডল গ্রামের বাসিন্দা ঘাটের খুরশেদ আলি এবং গহমাবাদ গ্রামের সজেমান আলি ও মোহাম্মদ বিশুর।
দুর্ঘটনার খবর পৌঁছতেই মৃত শ্রমিকদের বাড়িতে যান বিধায়ক মতিবুর রহমান। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমবেদনা জানান তিনি। পাশাপাশি, নিজের উদ্যোগে প্রতিটি পরিবারের হাতে এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন। শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তাই নয়, পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে পাকা বাড়ি তৈরির ব্যবস্থার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে এনেছেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, স্থানীয় স্তরে কাজের সুযোগ তৈরি করা গেলে জীবিকার সন্ধানে বহু মানুষকে ভিন্রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না। সেই লক্ষ্যেই এলাকায় হাসপাতাল ও মাখনা কারখানা খোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে প্রশাসনিক সহায়তা চাওয়া হবে বলেও জানান।
মতিবুর বলেন, “খুবই দুঃখজনক ঘটনা। হতদরিদ্র পরিবারের তিন কিশোরের প্রাণ চলে গিয়েছে। তাঁদের পরিবারের হাতে নিজের উদ্যোগে এক লক্ষ টাকা করে সাহায্য তুলে দিয়েছি। পরিবারগুলির জন্য পাকা বাড়ি তৈরির ব্যবস্থা করা হবে। এলাকায় হাসপাতাল ও মাখনা কারখানা খোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে প্রশাসনিক ভাবে সাহায্য দাবি করছি।”
অন্য দিকে, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সুমিত কুমার ঘোষ মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। মহারাষ্ট্র থেকে মৃতদেহগুলি বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলেও পরিবারের সদস্যদের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ভিন্রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। উপার্জনকারী সদস্যদের হারিয়ে পরিবারগুলির সামনে এখন একাধিক অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক সাহায্য, পাকা বাড়ি তৈরির আশ্বাস এবং মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার প্রশাসনিক উদ্যোগ কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে শোকাহত পরিবারগুলিকে। তবে দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং জীবিকার স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।





