নয়াদিল্লি, ২৯ অক্টোবরঃ আইপ্যাকের দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি ঘিরে সংঘাতের মামলায় আপাতত রায় ঘোষণা করল না সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র ও বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে। তল্লাশিতে বাধা দেওয়া এবং তদন্তকারীদের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শীর্ষ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। কয়লা পাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে কলকাতার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যান ইডির আধিকারিকেরা। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা আদালতে চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এমন দাবি করার অবকাশ নেই।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইডি এবং তৃণমূল দু’পক্ষই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। ইডির অভিযোগ ছিল, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, তৃণমূলের দাবি, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হাই কোর্টে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় সিবিআই তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে ইডি।
মামলার শুনানিতে তদন্তকারী সংস্থা বাছাইয়ের ক্ষমতা রাজ্য সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছিল। গত আগস্টে বিচারপতি মিশ্র ও বিচারপতি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চের প্রশ্নের জবাবে ইডির আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সূর্যপ্রকাশ ভি রাজু তাতে আপত্তি জানান। রাজ্য পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থার অভাবের কথাও তুলে ধরেছিল ইডি।
অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী জানিয়েছিলেন, রাজ্যে সরকার বদলেছে। ফলে নতুন সরকারই তদন্তকারী সংস্থা বেছে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মামলাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তবে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষ হলেও সুপ্রিম কোর্টের রায় এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে সিবিআই তদন্তের আর্জি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।





