নয়াদিল্লী, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ এক দিকে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য নিয়ে বিতর্ক। অন্য দিকে, তার মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উত্তরপ্রদেশ সফরের দু’টি কর্মসূচি স্থগিত। SIR ঘিরে কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কমিশনের দাবি, সাম্প্রতিক বিতর্কের সঙ্গে সফর স্থগিতের কোনও সম্পর্ক নেই।
শুক্রবার মিরাটে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে জ্ঞানেশের মতবিনিময়ের কথা ছিল। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বারাণসীতেও ‘জেনারেশন-জি’ বা Gen-Z ভোটারদের নিয়ে একই ধরনের কর্মসূচিতে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। দু’টি অনুষ্ঠানই ‘ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাব’ বা ELC 2.0 উদ্যোগের অংশ। লক্ষ্য, তরুণ ও প্রথম বার ভোট দিতে চলা নাগরিকদের ভোটার হিসাবে নথিভুক্তি, ভোটদানের প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করা।
শেষ মুহূর্তে দু’টি অনুষ্ঠানই পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন তারিখও এখনও জানানো হয়নি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে—SIR নিয়ে কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই কেন এই কর্মসূচি স্থগিত হল?
তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলেছে নির্বাচন কমিশন। এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, অনুষ্ঠান দু’টি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ২১ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ বিতর্কের খবর প্রকাশ্যে আসার আগেই। অনুষ্ঠানস্থলের উপযোগিতা, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ব্যস্ততা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার মতো একাধিক কারণেই তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে কমিশনের দাবি। অতীতেও বিভিন্ন রাজ্যে ELC কর্মসূচি পিছিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কিন্তু বিতর্কের সূত্রটি অন্য জায়গায়। ২৩ সেপ্টেম্বর ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী গত ১০ মাসে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটার বাদ দেওয়া, ভোটার ডেটাবেসে প্রবেশাধিকার এবং SIR-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
যদিও কমিশন অভ্যন্তরীণ ‘বিদ্রোহ’ বা সিদ্ধান্তে অচলাবস্থার অভিযোগ মানেনি। তাদের বক্তব্য, কমিশন একটি বহু-সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং মতামত বিনিময় তার স্বাভাবিক কাজের অংশ। SIR-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের দাবি।
ফলে আপাতত জ্ঞানেশের সফর স্থগিতের সরকারি ব্যাখ্যা এক রকম, আর রাজনৈতিক জল্পনার দিকটি অন্য রকম। উত্তরপ্রদেশে ২০২৭-এর বিধানসভা ভোটের আগে তরুণ ভোটারদের নিয়ে কমিশনের প্রচারাভিযানের মধ্যেই এই দু’টি কর্মসূচি পিছিয়ে যাওয়া সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।





