কলকাতা, ৬ সেপ্টেম্বরঃ কর্মীসভায় যোগ দিতে এসেছিলেন তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর। তাঁকে ঘিরেই শাসনে শুরু হল রাজনৈতিক উত্তেজনা। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার শাসনের খড়িবাড়ি এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই তৃণমূলের কয়েকটি পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত পুলিশি নিরাপত্তায় হুমায়ুন কবীরকে এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বারাসাত ২ নম্বর ব্লকের শাসনের খড়িবাড়িতে রবিবার একটি কর্মীসভার আয়োজন করেছিলেন হুমায়ুন। সভার জন্য পুলিশের অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছিল, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সভা করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরে হুমায়ুন কবীর সভাস্থলে পৌঁছন। তাঁকে দেখেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শান্ত এলাকায় এসে ধর্মীয় আবেগকে উসকে দেওয়ার মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অশান্তির পর এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করার কোনও প্রচেষ্টা তাঁরা মেনে নেবেন না।
পালটা বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠতে পারে বলেও তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য। যদিও এই ঘটনায় তৃণমূলের তরফে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা পালটা অভিযোগের বিস্তারিত এখনও সামনে আসেনি। অন্য দিকে, তৃণমূলের কয়েকটি পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তসাপেক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শাসন থানার পুলিশ। উত্তেজনা যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশি ঘেরাটোপে হুমায়ুন কবীরকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
জেলা পুলিশ সুপার জে মার্সির বক্তব্য, সভার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের পরে হুমায়ুন কবীর সেখানে পৌঁছেছিলেন। তাঁকে ঘিরে কয়েক জন বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিশ তাঁকে নিরাপদে এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি, নির্ধারিত সময়সীমা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ প্রশাসনের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের আবহে যাতে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত না হয়। কোনও পক্ষের অভিযোগই এখনও তদন্তে চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতেই নজর পুলিশের।





