কলকাতা, ১৪ মার্চঃ প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকা। শনিবার সকালে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা চত্বর। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ইটবৃষ্টি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজাও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে উত্তর কলকাতা থেকে বিজেপি কর্মীদের একটি মিছিল ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেই মিছিল গিরিশ পার্ক মোড়ে পৌঁছতেই আচমকা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, মিছিল লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়া শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের কর্মীরা একে অপরের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাথর ছোঁড়াছুড়ি।
বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এক বিজেপি কর্মীর দাবি, “ব্রিগেডের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে বাড়ির ছাদ ও রাস্তা থেকে আমাদের লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়া হয়। আমাদের কর্মীদের মারধরও করা হয়েছে।” সংঘর্ষে এক বিজেপি কর্মীর মাথা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিজেপি কর্মীরাই প্রথমে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং উস্কানি দেয়। তৃণমূলের অভিযোগ, গিরিশ পার্কে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে বিজেপি কর্মীরা ইটবৃষ্টি করে এবং বাড়ির জানলা-দরজায় ভাঙচুর চালায়।
মন্ত্রী শশী পাঁজা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে বলেন, “গুন্ডাদের নিয়ে ব্রিগেড করছে বিজেপি। আমার বাড়িতে হামলা হয়েছে এবং আমিও আহত হয়েছি।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশকেও বেগ পেতে হয়। পরে এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাফ। ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ গিরিশ পার্ক এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।





