শিলিগুড়ি, ১৯ জুনঃ উত্তরবঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যে নতুন ধাক্কার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গৌতম দেব। শুক্রবার সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পুর কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি তৃণমূল নেতৃত্ব গৌতম দেবকে দার্জিলিং (সমতল) জেলা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। দলের সাংগঠনিক কাজকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই মেয়র পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মেয়র পারিষদদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন গৌতম দেব। বৈঠকে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানালে মতভেদ তৈরি হয়। একাংশের মতে, শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ এখনও এক বছরেরও বেশি বাকি রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল না। অন্যদিকে, গৌতম দেব নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত শুক্রবার পদত্যাগ করেন।
২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বেই শিলিগুড়ি পুরনিগমে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘদিন বাম ও বিরোধী রাজনীতির প্রভাব থাকা এই শহরে তৃণমূলের সেই জয় ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর পদত্যাগের ফলে পুরবোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, গৌতম দেব দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতির পরিচিত মুখ। তিনি রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। যদিও ২০২১ সালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এবং ২০২৬ সালে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে পরাজিত হন।
তাঁর পদত্যাগের পর শিলিগুড়ি পুরনিগমে নতুন নেতৃত্ব কীভাবে গড়ে ওঠে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।





