কলকাতা, ৬ আগস্টঃ রাজনৈতিক অন্দরে জল্পনার পারদ চড়িয়েছে দিল্লির একটি বৈঠকের ছবি। প্রাক্তন আইপিএস ও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি আর পাতিলের ডাকা বৈঠকে দেখা যাওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বৈঠকে অন্য এক সাংসদের সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই দলবদলের জল্পনা ছড়িয়েছে। যদিও এ বিষয়ে রাজীব কুমার বা সংশ্লিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
২০১৯ সালে সারদা তদন্তের জেরে তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই অভিযানের পর তাঁকে ঘিরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য সমর্থন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকার প্রতিবাদে কলকাতার এসপ্ল্যানেডে ধরনায় বসেছিলেন মমতা। সেই সময় থেকেই রাজীব কুমারকে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের অন্যতম সদস্য হিসেবে দেখা হতো।
অবসর গ্রহণের পর চলতি বছর তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায় তৃণমূল। কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়, মানেকা গুরুস্বামী এবং রাজীব কুমার এই চার জনকে একসঙ্গে উচ্চকক্ষে পাঠিয়েছিল দল।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজীব কুমারকে দলীয় কর্মসূচিতে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। যদিও ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যেই বুধবার রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল বাংলার সাংসদদের বৈঠকে ডাকেন। সেই বৈঠকেই রাজীব কুমারকে দেখা যায়। পরে একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে প্রকাশিত ছবিতে তাঁকে অন্য এক সাংসদের সঙ্গে কথোপকথনে দেখা যাওয়ার পর থেকেই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সংসদীয় বৈঠকে বিভিন্ন দলের সাংসদদের মধ্যে আলোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। শুধুমাত্র একটি বৈঠক বা ছবি থেকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। রাজীব কুমার দলবদল করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
ফলে আপাতত জল্পনা থাকলেও বাস্তবে কী সিদ্ধান্ত নেন রাজীব কুমার, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তাঁর নীরবতাই আপাতত এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।





