কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বরঃ পালাবদলের পর বার বার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। কখনও দলীয় কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ, কখনও বাড়িঘর ভাঙচুর, আবার কখনও শাসকদলের নেতাদের উপর আক্রমণ এবার সেই অভিযোগের পরিধি আরও বাড়াতে চাইছে তারা। বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং রাজ্যপাল আরএন রবির সঙ্গে দেখা করতে চায় তৃণমূল। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দু’জনের কাছেই চিঠি পাঠিয়ে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে।
৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বাংলার রাজনৈতিক ছবিটাই বদলে গিয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ক্ষমতার বাইরে গিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ, নতুন সরকারের আমলে তাঁদের নেতা-কর্মীদের উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলছে। কোথাও বাড়িঘর ভাঙচুর, কোথাও হেনস্থার অভিযোগ উঠছে। যদিও বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, অন্যায় করলে রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর মধ্যেই একের পর এক ঘটনায় উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। সোনারপুরে নিহত এক কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে কাদা-জল ছোড়ার অভিযোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। তৃণমূল নেতাদের একাধিক কর্মসূচিতেও বিক্ষোভ ও ডিম হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে।
সেই আবহেই বৃহস্পতিবার ভোরে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর এবং অফিসের সামগ্রী নষ্ট করার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই কয়েক জনকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তৃণমূলের যুক্তি, বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সময় নেই। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও যদি আশ্বস্ত না হওয়া যায়, তবে সাংবিধানিক পদাধিকারীদের কাছে যাওয়াই স্বাভাবিক পথ। রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের কাছে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিহাসও কম নয়। তৃণমূল সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলত বিজেপি। তখন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হত তারা। ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই একই অভিযোগের তীর এখন নতুন সরকারের দিকে। ফলে রাষ্ট্রপতি-রাজ্যপালের সঙ্গে তৃণমূলের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ শুধু প্রশাসনিক অভিযোগ জানানোর ঘটনা নয় এটি বাংলার নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়েরও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।





