শিলিগুড়ি, ১৩ ডিসেম্বরঃ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তের প্রকাশ্য অভিযোগ ও হুঁশিয়ারির পর এবার সক্রিয় হয়ে উঠল পুলিশ প্রশাসন। উত্তরবঙ্গে নদী থেকে বেআইনি ভাবে বালি ও পাথর তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একের পর এক অভিযানে ধরা পড়ছে অবৈধ পরিবহনের গাড়ি।
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে এসে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নদী থেকে বালি–পাথরের চোরাকারবার নিয়ে সরব হয়েছিলেন। একইসঙ্গে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত মাটিগাড়ার বালাসন নদী এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে যদি বালি–পাথরের কালো কারবার বন্ধ না হয়, তবে তিনি পথে নামবেন এবং প্রয়োজনে বালি–পাথর বোঝাই গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেবেন।
এই মন্তব্যের পরই নড়েচড়ে বসে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। সাংসদের হুমকির পরদিনই ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের অভিযানে বেশ কয়েকটি বেআইনি বালি–পাথর পরিবহনের গাড়ি আটক করা হয়। এর পাশাপাশি বৃহস্পতিবার নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশও বেআইনি বালি পরিবহনের অভিযোগে গাড়ি আটক করে।
এর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় অভিযান চালায় শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের মাটিগাড়া থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা অভিযানে আটক করা হয় মোট ৭টি বালি ও পাথর বোঝাই ট্রাক ও ডাম্পার। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ জনকে, পলাতক রয়েছে আরও ৩ জন।
মাটিগাড়া থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম প্রীতম মাঝি, দীপক মাঝি, নবদ্বীপ বর্মন ও চিরঞ্জিত দাস। তাঁরা প্রত্যেকেই গাড়ির চালক। পুলিশ জানিয়েছে, বালাসন নদী থেকে বেআইনি ভাবে বালি–পাথর পরিবহন করা হচ্ছিল এবং তল্লাশির সময় চালকেরা কোনও বৈধ রাজস্ব নথি দেখাতে পারেনি। ধৃতদের শনিবার শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হবে। গোটা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।





