বানারহাট, ১০ ডিসেম্বরঃ রাঙাটি নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে জলজ পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল বানারহাট এলাকায়। মঙ্গলবার গভীর রাতে অসাধু মাছশিকারিরা অধিক পরিমাণে মাছ সংগ্রহের লোভে নদীর জলে কীটনাশক মেশায় বলে স্থানীয়দের দাবি। এর জেরে বুধবার সকালে নদীজুড়ে ভেসে ওঠে অসংখ্য মৃত মাছ। নদীর ধারে ভিড় জমায় গ্রামবাসী। বহু মানুষ নদীতে নেমে সেই মৃত মাছ কুড়াতেও দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই রাঙাটি নদীতে নানা প্রজাতির ছোট-বড় মাছ পাওয়া যেত। এখনও নদীটি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি দ্রুত অধিক মাছ ধরার আশায় নিয়মিত নদীতে বিষ প্রয়োগ করছে। এতে নদীজলের মান মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে এবং জলজ প্রাণের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে। তাঁদের বক্তব্য, “এভাবে বিষ দিলে নদী শেষ হয়ে যাবে। মাছও থাকবে না, নদীও থাকবে না।”
বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, বুধবার সকাল থেকেই নদীতে মৃত মাছ ভেসে উঠলেও, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি। তাদের দাবি, “এই ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে আরও নদী ও জলাশয় বিপদের মুখে পড়বে।” গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, দোষীদের হাতেনাতে ধরতে পারলে তাঁরা সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দিতেন।
পরিবেশপ্রেমীরা ঘটনাটিকে ‘পরিবেশ হত্যাকাণ্ড’ বলে তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিষ প্রয়োগের ফলে শুধু মাছ নয়, নদীর অন্যান্য প্রাণী, জলজ উদ্ভিদ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, পোকামাকড় সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নদীর জৈব-চক্র পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত নজরদারি বাড়াক এবং নিয়মিত নদীর পরিবেশ পরীক্ষা করা হোক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কীটনাশকের রাসায়নিক নদীতে মিশলে তা জলের অক্সিজেন কমিয়ে দেয়, ফলে মাছ মুহূর্তে মারা যায়। পাশাপাশি মানুষের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, কারণ অনেকেই সেই মৃত মাছ সংগ্রহ করে খেয়ে থাকেন।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি, “রাঙাটি নদীকে বাঁচাতে চাই। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নিলে নদী আর ভবিষ্যৎ কেউই নিরাপদ থাকবে না।” প্রশাসনের তরফে ঘটনাটি নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও, এলাকার মানুষ দ্রুত তদন্তের অপেক্ষায়।





