শ্রীরামপুর, ২৬ সেপ্টেম্বর: বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই প্রথম জেলা সফরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার শ্রীরামপুর কোর্টের মাঠে সভা করবেন তিনি। দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনের পর কলকাতা হাই কোর্টের অনুমতি মিলেছে এই সভার। আদালতের নির্দেশ মেনে বিকেল ৪টে থেকে ৬টার মধ্যে সভা শেষ করতে হবে। জমায়েতে সর্বোচ্চ ১,০০০ জন থাকতে পারবেন।
সভাকে ঘিরে শুক্রবার রাত থেকেই শ্রীরামপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ। বৃষ্টিতে মাঠে জল জমায় মঞ্চ তৈরির কাজেও সমস্যা দেখা দেয়। তার মধ্যেই শনিবারের সভার প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের নেতারা। শুক্রবার রাতে সভাস্থল ঘুরে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার কনভেনার অসিত মজুমদার।
তবে সভার আবহের মধ্যেই অন্য একটি ঘটনা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। মমতার সভার আগের রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে হুগলি জেলা পরিষদের প্রাক্তন তৃণমূল সদস্য টুম্পা মেটেকে। রিষড়ার বামুনারি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে ডানকুনি থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের অযোগ্য চাকরিপ্রাপকদের তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার আদালতে তোলার সময় টুম্পা দাবি করেন, রাজ্য জুড়ে কালীঘাট তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। তাঁর এই বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে না গিয়ে, অভিযোগের তদন্ত চলছে বলেই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অন্য দিকে, সভা নিয়ে শুরু থেকেই একাধিক শর্ত দিয়েছে হাই কোর্ট। মিছিল করা যাবে না, জিটি রোড অবরোধ করা যাবে না, শব্দবিধি মানতে হবে এবং কোনও প্ররোচনামূলক বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এমন বক্তব্য রাখা যাবে না। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশও রয়েছে।
বিধানসভা ভোটের ফলের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে শ্রীরামপুরের এই সভা তাই শুধু আর পাঁচটা দলীয় কর্মসূচি নয়। কর্মীদের উদ্দেশে মমতা কী বার্তা দেন, সংগঠনকে কী ভাবে এগোনোর নির্দেশ দেন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঘটনাবলি নিয়ে তাঁর বক্তব্য কী হয় সেই দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। তবে সভা থেকেই তিনি কী বলবেন, তা আগাম নিশ্চিত নয়।





