নিজস্ব সংবাদদাতা, ২০ জুলাইঃ শহিদ দিবসের আগের দিনই রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, বিকেলের অধিবেশনে বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আগের সরকার কমিশন গঠন করলেও দীর্ঘদিন সেই রিপোর্ট জনসমক্ষে আনেনি।
অধিবেশন শুরুর পর অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিকেলে দশ মিনিট সময় চাই। ২১ জুলাইয়ের তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট পড়ে শোনাব। আগের সরকার রিপোর্ট তৈরি করেও তা প্রকাশ করেনি। আজ বিধানসভায় সেই রিপোর্টের মূল বিষয়গুলি তুলে ধরা হবে।’’
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে তৎকালীন যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মীর মৃত্যু হয়। সেই সময় আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন যুব কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে ওই ঘটনার তদন্তে বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করেন তিনি।
তবে সরকারের পরিবর্তনের আগে পর্যন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। সেই বিষয়টি উল্লেখ করেই এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ফাইলবন্দি থাকা রিপোর্ট এবার বিধানসভার মাধ্যমে জনসমক্ষে আনা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শহিদ দিবসের ঠিক আগের দিন এই রিপোর্ট প্রকাশের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২১ জুলাই এখনও রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্মারক দিবস। প্রতিবছর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি থাকে। এবারও মঙ্গলবার শহরে একাধিক দলের পৃথক শহিদ তর্পণের আয়োজন রয়েছে।
এই আবহেই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের ঘোষণা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণে কী রয়েছে, ঘটনার দায় নির্ধারণে কী মন্তব্য করা হয়েছে এবং এতদিন তা প্রকাশ না হওয়ার কারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিধানসভায় রিপোর্ট পেশের পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।





