মালদা, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ মালদহের মানিকচক থানার অন্তর্গত মথুরাপুর বাজার পাড়া এলাকায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাড়িতে ঢুকে আলমারির লকার ভেঙে নগদ টাকা ও অলংকার চুরি করে পালানোর আগেই গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তন্ময় কুমার মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে দুপুরের দিকে ঢোকে কয়েকজন মহিলা। বাড়ির লোকজনের অগোচরে তারা ঘরে রাখা আলমারির লকার ভেঙে কৌটোতে রাখা নগদ টাকা ও বিভিন্ন সোনার অলংকার নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বাড়ির মালিকের স্ত্রীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি ঘরে গিয়ে দেখেন, আলমারির লকার ভাঙা এবং জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
তৎক্ষণাৎ তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় হইচই পড়ে যায়। গ্রামবাসীরা চারদিকে খোঁজ শুরু করে সন্দেহভাজনদের তাড়া করেন। কিছু দূরেই তাদের আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে চুরি যাওয়া টাকা ও অলংকারভর্তি কৌটো উদ্ধার হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন মাঝবয়সি মহিলা, একজন নাবালিকা এবং এক সদ্যোজাত শিশুসহ আরেক মহিলা। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, এরা পরিকল্পনা করেই এলাকায় এসে চুরি করছিল। তবে ধরা পড়ার পর উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের চড়-থাপ্পড় দেয় বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মানিকচক থানা-র পুলিশ। পুলিশ গ্রামবাসীদের হাত থেকে অভিযুক্তদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধার হওয়া টাকা ও সামগ্রী পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের পরিচয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা কোনও বড় চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নাবালিকা ও শিশুকে ঘিরে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়েও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দিনের আলোয় এমন দুঃসাহসিক চুরির চেষ্টা গ্রামবাসীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।





