কলকাতা, ১১ মার্চঃ ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের আবহে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গেও সতর্ক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বুধবার বিকেলে গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংক্রান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তেল সংস্থা ও গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আলিপুরের সৌজন্য প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক।
সূত্রের খবর, তিনটি তেল সংস্থা এবং গ্যাস ডিলারদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে যে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তা দ্রুত সমাধানের উপায় খুঁজতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা যায়।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী-এ তেল পরিবহণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সেই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাতেও কিছুটা পড়তে শুরু করেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “জ্বালানি তেল নিয়ে এখনও বড় কোনও সমস্যা হয়নি। মূল সমস্যা এলপিজি গ্যাসে। আমরা ডিলারদের বলেছি, রাজ্যে যে গ্যাস মজুত আছে তা আপাতত বাইরে না পাঠাতে।” তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যক্ষেত্র, মিড-ডে মিল প্রকল্প এবং আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিতে যাতে গ্যাস সরবরাহে কোনও সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে ডিলাররা আশ্বাস দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, শীঘ্রই একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করা হবে। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠক করে পরিস্থিতি আরও একবার খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।





