নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: গুন্ডাদমন বিল নিয়ে বিধানসভায় তুমুল বিতর্কের মধ্যেই আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল অধিবেশন। ওয়াকফ-সংক্রান্ত হিংসায় নিহত চন্দন দাস ও হরগোবিন্দ দাসের পরিবারের সদস্যরা সোমবার উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার দর্শক গ্যালারিতে। বিলের উপর আলোচনার সময় তাঁদের দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই বিল নিয়ে আসার কারণ উপরে বসে আছেন। এঁরাই সেই কারণ।” এরপরই তিনি উপস্থিত বিধায়কদের তাঁদের সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। শাসকদলের বিধায়কেরা উঠে দাঁড়িয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সোমবার বিধানসভায় ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ বা বহুল আলোচিত ‘গুন্ডাদমন বিল’ পেশ করা হয়। বিলের উদ্দেশ্য নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গ তোলেন। সেই সময়ই গ্যালারিতে উপস্থিত নিহতদের পরিবারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সমাজে হিংসা ও সন্ত্রাস রুখতেই এই ধরনের আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর শাসকদলের বিধায়কেরা আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানান। কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন কক্ষের পরিবেশ আবেগঘন হয়ে ওঠে। গ্যালারিতে উপস্থিত পরিবারের সদস্যদের প্রতিও অনেকের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, গুন্ডাদমন বিলের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরকার হিংসার শিকার পরিবারগুলির উপস্থিতিকে প্রতীকী গুরুত্ব দিতে চেয়েছে। অন্যদিকে, বিলটি নিয়ে বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন তুলেছে। ফলে আইনটির প্রয়োজনীয়তা, কার্যকারিতা এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য সবকিছু নিয়েই বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
বিধানসভার দিনের আলোচনায় বিলের আইনি দিক যেমন গুরুত্ব পেয়েছে, তেমনই গ্যালারিতে উপস্থিত নিহতদের পরিবারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আবেগঘন মুহূর্তও রাজনৈতিক মহলে আলাদা করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।






