শিলিগুড়ি,৭মেঃ শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় তদন্তে উঠে এল একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল শিলিগুড়ির একটি ভুয়ো নম্বরপ্লেট লাগানো চারচাকা গাড়ি। ঘটনার পর থেকেই নম্বরপ্লেটের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ এবং সেখান থেকেই সামনে আসে নতুন তথ্য।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, আততায়ীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। খুনের ঘটনায় একটি চারচাকা গাড়ি ও একটি বাইক ব্যবহার করা হয় বলে অনুমান পুলিশের। ঘটনার পর দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে তদন্তকারী দল। সেই সূত্র ধরেই সন্দেহজনক গাড়িটির নম্বর সামনে আসে।
পুলিশ গাড়ির নম্বর ট্র্যাক করে জানতে পারে, সেটির রেজিস্ট্রেশন শিলিগুড়ির আরটিও-তে নথিভুক্ত। তদন্তে উঠে আসে শিবমন্দির এলাকার বাসিন্দা উইলিয়াম জোসেফের নাম। কারণ, তাঁর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরই আততায়ীরা ব্যবহার করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। বুধবার গভীর রাতে তাঁকে থানায় ডেকে পাঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ চালায় পুলিশ।
তবে তদন্তে স্পষ্ট হয়, ঘটনার সঙ্গে উইলিয়াম জোসেফের কোনও প্রত্যক্ষ যোগ নেই। পুলিশি জেরায় তিনি জানান, তাঁর গাড়ি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যক্তিগত ব্যবহারে রয়েছে এবং খুনের ঘটনার সময় সেটি অন্য কোথাও যায়নি। এরপর তদন্তকারীরা অনুমান করেন, আততায়ীরা পরিকল্পনা করেই তাঁর গাড়ির নম্বর নকল করে ভুয়ো নম্বরপ্লেট তৈরি করেছিল। সেই কারণেই রাতেই তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে অপরাধমূলক ঘটনায় ভুয়ো নম্বরপ্লেট ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে। তদন্তকারীদের মতে, অপরাধীরা যাতে সহজে ধরা না পড়ে, সেই কারণেই এই ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন এবং গাড়ির গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, খুব শীঘ্রই এই খুনের ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।





