কলকাতা, ৬ আগস্টঃ রাজ্যে দুর্নীতি ও তোলাবাজি নিয়ে ফের সরব সরকারেরই এক মন্ত্রী। এবার অভিযোগের নিশানায় পুলিশের একাংশ। ভিনরাজ্য থেকে কৃষিকাজের আধুনিক যন্ত্র বাংলায় আনতে গেলে সীমান্তে পুলিশ ও দালালচক্রের হাতে কৃষকদের ‘তোলা’ দিতে হচ্ছে বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, একটি যন্ত্র রাজ্যে ঢোকাতে কখনও কখনও ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। সেই অভিযোগ সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বুধবার কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘বিকশিত অ্যাগফুড টেক সামিট’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, চাষের মরশুমে বহু কৃষক ও সংস্থা ভিনরাজ্য থেকে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ভাড়া করে নিয়ে আসেন। কিন্তু রাজ্যের সীমান্তে প্রবেশের সময় তাঁদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তাঁর অভিযোগ, “সীমান্ত পেরিয়ে আসার সময় পুলিশ হোক কিংবা অন্য কোনও সংস্থা, ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। এত টাকা দিয়ে দিলে কৃষকের হাতে আর কী থাকবে?”
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে এক শ্রেণির দালালও যুক্ত রয়েছে। সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “সবই আমরা জেনেছি। সরকার নতুন এসেছে। নিয়ম তৈরি হবে। অনুমতি নিয়েই কৃষকরা যন্ত্র আনেন, তারপরও তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।”
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের পর পুলিশ মহলের একাংশও বিষয়টিকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না। তবে তাঁদের বক্তব্য, গোটা পুলিশ বাহিনীকে এক পাল্লায় মাপা উচিত নয়। সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় কিছু অসাধু আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতে পারে। তাঁদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, কারণ কয়েকজনের জন্য পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়ে আসছে সরকার। ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানানোর জন্য হেল্পলাইন চালু হয়েছে। শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধেও অতীতে প্রকাশ্যে কড়া মন্তব্য করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। ক্ষমতার অপব্যবহার করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছিলেন তিনি। এবার সেই একই সুরে পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রশাসনের অন্দরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। এখন নজর, এই অভিযোগের ভিত্তিতে সরকার বা পুলিশ প্রশাসন কোনও তদন্ত বা পদক্ষেপ করে কি না।





