ময়নাগুড়ি, ২৫ মার্চঃ ছাব্বিশের নির্বাচন-কে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি থেকে ফের রাজনৈতিক সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। বুধবারের জনসভা থেকে একযোগে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “বিজেপি-কমিশন মিলে আমার সব কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু আমার কাছে শুধু মানুষ আছে।”
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি স্পষ্ট করে দেন, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর প্রধান শক্তি সাধারণ মানুষই।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের শাসক দল পশ্চিমবঙ্গকে ভেঙে অন্য রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। যদিও এই দাবি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মানুষের অধিকারের জন্য তিনি সবসময় লড়াই করেছেন রাস্তা থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। তাঁর মতে, এই লড়াইয়ের কৃতিত্ব তাঁর ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজ্যের মানুষের।
এদিন প্রশাসনিক স্তরে নির্বাচন কমিশনের একাধিক পদক্ষেপ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ভোট ঘোষণার পরেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক শীর্ষকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকেও বদলি করা হয়েছে। মমতার অভিযোগ, বিজেপির প্রভাবেই এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
সভামঞ্চ থেকেই মা-বোনেদের প্রণাম জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ভবিষ্যতেও চালু থাকবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, তৃণমূল মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।
বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি ‘বসন্তের কোকিল’ বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে পা দেবেন না।” এছাড়াও বাংলা ভাষা নিয়ে অপমানের অভিযোগ তুলে বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি।
পেট্রোল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। এলপিজি বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। সব মিলিয়ে, ময়নাগুড়ির সভা থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে আবেগ, আক্রমণ এবং প্রতিশ্রুতির মিশেলে জোরালো বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।





