কলকাতা, ৩ এপ্রিল: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বড় আপডেট দিল নির্বাচন কমিশন। অষ্টম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করে কমিশন জানিয়েছে, এই পর্যায়ে প্রায় ৩ লক্ষ ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর ফলে এখনও পর্যন্ত মোট ৫২ লক্ষেরও বেশি বিচারাধীন ভোটারের নামের নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কতজনের নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে বা বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেয়নি কমিশন।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় জানা গিয়েছিল, মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম বিচারাধীন অবস্থায় ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই নামগুলির যাচাই-বাছাই এবং নিষ্পত্তির কাজ করছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। কমিশনের দাবি, ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে দ্রুত এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
অষ্টম তালিকা প্রকাশের পর কমিশন জানিয়েছে, এখনও প্রায় ৭ লক্ষের কিছু বেশি ভোটারের নামের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। তবে বর্তমান গতিতে কাজ চললে আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যেই সমস্ত বিচারাধীন নামের নিষ্পত্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী কমিশন।
এদিকে, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অনলাইন এবং অফলাইন দুই পদ্ধতিতেই আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। ফলে নাম বাদ পড়া ভোটাররা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল জানাতে পারবেন।
তবে এই গোটা প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু জায়গায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মালদহ-সহ একাধিক জেলায় উত্তেজনার খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
প্রসঙ্গত, প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। এই দফার জন্য মনোনয়নের শেষ দিন ৬ এপ্রিল। ওই দিন পর্যন্ত যে ভোটারদের নাম তালিকায় থাকবে, তাঁরাই ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট হবে ২৯ এপ্রিল, যার মনোনয়নের শেষ দিন ৯ এপ্রিল। সেই সময় পর্যন্ত তালিকায় থাকা ভোটাররাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া শেষ হলে রাজ্যে মোট ভোটারের প্রকৃত সংখ্যা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার লক্ষ্যেই বলে দাবি করা হয়েছে।





