কলকাতা, ৩১ জুলাইঃ সাড়ে তিন কেজি সোনা। কোটি কোটি টাকার গয়না। সঙ্গে ৭৬ কোটি টাকার সোনা কেনার রসিদ। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে ঘিরে ওঠা এই বিস্ফোরক অভিযোগের তদন্তে এবার সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার ভোর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের ১২টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনার উৎস এবং তা দুর্নীতি বা তোলাবাজির টাকায় কেনা হয়েছিল কি না, তার হদিশ পাওয়া।
ইডি সূত্রের খবর, শর্ট স্ট্রিট, খিদিরপুর-সহ কলকাতার একাধিক ঠিকানার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন জায়গাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। সব্যসাচী দত্তের আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির নথি, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য এবং সোনা কেনাবেচার নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা বলে জানা গিয়েছে।
গত মাসে তোলাবাজির অভিযোগে সব্যসাচী দত্তকে গ্রেপ্তার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। এরপর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় তাঁর ফ্ল্যাট ও ব্যাঙ্কের লকার থেকে প্রায় সাড়ে তিন কেজি সোনা উদ্ধার হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। শুধু তাই নয়, তল্লাশিতে ৭৬ কোটি টাকার সোনা কেনার রসিদও উদ্ধার হয়েছিল। পাশাপাশি সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতেও বিপুল পরিমাণ সোনা মিলেছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
এই ঘটনার পরই অর্থপাচার বা বেআইনি সম্পদের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে ইডি। বিধাননগর উত্তর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের নথি সংগ্রহ করে তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। তদন্তকারীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, সব্যসাচী দত্তের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সোনা ও সম্পত্তির পরিমাণের যথেষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে। সেই কারণেই সম্পদের প্রকৃত উৎস, অর্থের লেনদেন এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের যোগসূত্র খুঁজতে আরও গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে।
শুক্রবারের তল্লাশির মাধ্যমে নতুন কোনও নথি বা আর্থিক লেনদেনের সূত্র মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারী মহলের। এই অভিযানের পর তদন্তে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।





