শিলিগুড়ি, ১৯ জুনঃ বর্ষার প্রথম দফার ভারী বৃষ্টিতেই ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু। মাত্র আট মাস আগে নির্মিত এই সেতু ভেঙে যাওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে। ঘটনাকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। এত অল্প সময়ের মধ্যেই কীভাবে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সেতু নির্মাণে কোনও গাফিলতি বা আর্থিক অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুধিয়া সেতু নির্মাণে কোনও ধরনের কাটমানি বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হল দ্রুত সেতুর মেরামতি করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ধস ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। দার্জিলিংয়ের লেবং কার্ট রোড এবং মিরিকের গয়াবাড়ি এলাকায় ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে। নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। সেচ দপ্তর, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
তবে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস উত্তরবঙ্গবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ধস নামার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে দক্ষিণবঙ্গেও বৃষ্টির প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। কলকাতা-সহ ১০টি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুধিয়া সেতু ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধাক্কা খেয়েছে, তেমনি নির্মাণের গুণমান ও সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের ফলাফলের দিকে।





