ফরাক্কা, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ পুজোর মুখে মাদকের কারবারে বড়সড় ধাক্কা। মালদহের কালিয়াচক থেকে ফরাক্কার করিডোর পেরিয়ে বিহারে পাচারের আগেই বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার করল পুলিশ। নিউ ফরাক্কা মোড়ের কাছে একটি হোটেলের সামনে মাদক হাতবদলের সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে চার জনকে। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া হেরোইনের পরিমাণ প্রায় ৯৮০ গ্রাম। আন্তর্জাতিক বাজার নয়, স্থানীয় বাজারমূল্য হিসাবেই যার আনুমানিক দাম প্রায় আড়াই কোটি টাকা বলে দাবি পুলিশের।
শুক্রবার দুপুরে গোপন সূত্রে খবর আসে ফরাক্কা থানার আইসি অমিত মুখোপাধ্যায়ের কাছে। খবর ছিল, মালদহের কালিয়াচক থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ফরাক্কার রাস্তা ধরে বিহারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। নিউ ফরাক্কা মোড়ের কাছে একটি হোটেলকে ঘিরে শুরু হয় নজরদারি। সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় উর্দিধারী বাহিনীও।
অভিযোগ, মালদহ থেকে আসা এক ব্যক্তি হোটেলের কাছে বিহার থেকে আসা আরও তিন জনের হাতে একটি প্যাকেট তুলে দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই চার দিক থেকে তাঁদের ঘিরে ফেলেন পুলিশকর্মীরা। তল্লাশিতে উদ্ধার হয় প্রায় ৯৮০ গ্রাম হেরোইন। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয় চার জনকে।
ধৃতদের নাম শেখ সরফরাজ আহমেদ, সাকেত কুমার, অঙ্কিত কুমার এবং ভবেশ কুমার। পুলিশ জানিয়েছে, সরফরাজ মালদহের বাসিন্দা। বাকি তিন জন বিহারের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মালদহ থেকে মাদক নিয়ে এসে বিহারে পাঠানোর জন্যই এই হাতবদলের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে এই পাচারচক্রের পিছনে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ধৃতদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। জেরায় মাদকচক্রের মূল মাথার সন্ধান মিলবে কি না, এখন সেটাই তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য। কোথা থেকে হেরোইন এসেছিল, কার নির্দেশে তা পাচার হচ্ছিল এবং এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অ্যাডিশনাল এসপি সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘‘ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হচ্ছে। এই চক্রের মূল মাথা কে এবং এর পিছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে ফরাক্কা থানার পুলিশ। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলাকে মাদকমুক্ত করতে এই ধরনের অভিযান চলবে।’’
পুজোর আগে মাদকপাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযানে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, শুধু এই চার জনই কি চক্রের সদস্য, নাকি তাঁদের পিছনে রয়েছে আরও বড় আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক? সেই উত্তরই এখন খুঁজছেন তদন্তকারীরা।





