কলকাতা, ৫ অক্টোবরঃ রাজ্যে পালাবদলের পাঁচ মাসের মধ্যেই আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় বদলের পথে বাংলা। কেন্দ্রের ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যে আরও চারটি বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে। সেই লক্ষ্যেই সোমবার নবান্ন সভাঘরে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সমঝোতাপত্র(MoU) স্বাক্ষর হওয়ার কথা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কিনজারাপু রামমোহন নাইডুর।
প্রশাসন সূত্রে খবর, হাসিমারা, কোচবিহার, বালুরঘাট এবং হলদিয়ায় বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্পের আওতায় এই বিমানবন্দরগুলি চালু হলে বাংলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময় অনেকটাই কমবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিমানবন্দরগুলির মাধ্যমে ৭২ আসনের বিমান চালানোর ব্যবস্থা করা হবে।
পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য সরকার একাধিক বিমানবন্দর নিয়ে তৎপরতা শুরু করে। বালুরঘাট বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত পরিষেবা চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে হাসিমারা, কোচবিহার এবং হলদিয়ার পরিকাঠামো নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে পর্যালোচনা হয়েছে।
রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার নবান্নে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। শুধু রাজ্যের চার প্রান্তকে আকাশপথে যুক্ত করা নয়, কলকাতা থেকে ইউরোপে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফেরানোর আবেদনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চুক্তি অনুযায়ী, বিমানবন্দর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি, সংযোগকারী রাস্তা, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ এবং প্রাথমিক নিরাপত্তার মতো পরিকাঠামোগত দায়িত্ব রাজ্য সরকারের হাতে থাকবে। অন্য দিকে বিমানবন্দরের মূল পরিকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করবে কেন্দ্র।
রাজ্য সরকারের আশা, নতুন বিমানবন্দরগুলি চালু হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, শিল্প ও পর্যটন ক্ষেত্রেও গতি আসবে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতা এবং দেশের অন্যান্য শহরের যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থাৎ, চার বিমানবন্দর ঘিরে শুধু আকাশপথের সম্প্রসারণ নয় বাংলার যোগাযোগ, বাণিজ্য ও পর্যটনের মানচিত্রও বদলানোর স্বপ্ন দেখছে কেন্দ্র ও রাজ্য।





