কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বরঃ বিলবোর্ড খুলতে গিয়ে উত্তপ্ত ক্যামাক স্ট্রিট। সেই ঘটনায় এ বার তদন্তের কেন্দ্রে একে একে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। বুধবার সকাল ১০টা ১ মিনিটে নিজেই গাড়ি চালিয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। পুলিশের নোটিস মেনে হাজিরা দিলেও তাঁকে ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি আগে থেকেই সেরে রেখেছিল তদন্তকারী দল। একই মামলায় বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ থানায় হাজির হওয়ার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়েরও।
ক্যামাক স্ট্রিটে কালীঘাট তৃণমূলের কার্যালয়ের বিলবোর্ড খোলা নিয়ে কয়েক দিন আগে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ ও পুরকর্মীদের কাজে বাধা, সরকারি কর্মীদের হেনস্থা এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলার মতো একাধিক অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মামলায় অভিষেক, ডেরেক, সুমিত-সহ একাধিক তৃণমূল কর্মীর নাম রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে মূলত ওই দিনের ঘটনাক্রম, কার নির্দেশে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার কারণ এই প্রশ্নগুলিই গুরুত্ব পাচ্ছে। মঙ্গলবার থানায় হাজির হয়ে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটনাস্থলের ভিডিয়ো ফুটেজ দেখানো হয় বলে সূত্রের খবর। ফুটেজে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে পুলিশ প্রশ্ন তোলে।
অভিযোগ, পুরকর্মী ও পুলিশ বিলবোর্ড সংক্রান্ত কাজে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। এমনকি পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগও রয়েছে। সরকারি কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মীর উপর হামলা বা হুমকি অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারায় তদন্ত হতে পারে। তবে কোনও অভিযোগই আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা অপরাধ হিসেবে চূড়ান্ত নয়।
ডেরেকের হাজিরার পর এখন নজর সুমিত রায়ের দিকে। একই ঘটনায় একের পর এক তৃণমূল নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়ছে। পুলিশের প্রশ্ন, বিলবোর্ড খোলার মতো একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী ভাবে রাস্তায় সংঘাতের চেহারা নিল? তদন্তের উত্তরই এখন সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে।





