খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ ফেব্রুয়ারিঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দিল্লি গিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সদস্য। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে চাণক্যপুরী ও হেইলি রোডের বঙ্গভবনে। তবে সোমবার সকালে আচমকাই বঙ্গভবন ঘিরে দিল্লি পুলিশের অতিসক্রিয়তা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
অভিযোগ, সকাল থেকেই চাণক্যপুরী ও হেইলি রোডের বঙ্গভবন এলাকা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি বঙ্গভবনের ভিতরে ঢুকে ঘরে ঘরে তল্লাশিও চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরেই আর সময় নষ্ট না করে নিজের বাসভবন থেকে ‘এক কাপড়ে’ বেরিয়ে বঙ্গভবনের সামনে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদে রণংদেহী মেজাজে গর্জে ওঠেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় তুলে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “সকাল থেকে বঙ্গভবন পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। ঘরে ঘরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের এই এক্তিয়ার নেই। এসআইআরের কারণে যাঁদের পরিবারে মৃত্যু হয়েছে বা যাঁরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের পরিজনরা আমাদের সঙ্গে এসেছেন। তাঁরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেই এখানে এসেছেন।” একই সঙ্গে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আপনি বাংলায় এলে রেড কার্পেট পেতে রাখি, আর আমরা দিল্লিতে এলে কালো কার্পেট?”
এরপরই অমিত শাহকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে চাণক্যপুরীর বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। সেই সময় তৃণমূলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেও পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়াতে দেখা যায়।
বঙ্গভবনে পৌঁছে এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত ও স্বজনহারাদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের খোঁজখবর নিয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, “চিন্তা করবেন না। আমি আছি।” তিনি স্পষ্ট জানান, সোমবার ও মঙ্গলবারের নির্ধারিত কর্মসূচিতে কোনও পরিবর্তন হবে না। কেউ কোনও অসহযোগিতার শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জানাতে বলেন।
এরপর হেইলি রোডের বঙ্গভবনেও যান মমতা। সেখানেও দিল্লি পুলিশের সঙ্গে ফের বচসা শুরু হয়। সাংবাদিকদের ক্যামেরা ঘুরিয়ে পুলিশের ঘেরাও দেখাতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই ধীরে ধীরে পিছু হটে দিল্লি পুলিশ।
শেষ পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের সরে যাওয়া নিয়ে মমতা বলেন, “দিল্লি পুলিশকে দোষ দেব না। দোষ তাঁর, যিনি মাথায় বসে আছেন। এসআইআরের নামে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। দেশে স্বৈরাচার চলছে। আমাকে দুর্বল ভাববেন না। দিল্লিতে গরিব মানুষের কোনও জায়গা নেই।” এই নাটকীয় ঘটনায় কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





