নয়াদিল্লী, ১২ অক্টোবরঃ দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র। আন্দোলনকারীদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে এ বার সরাসরি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) দিকে আঙুল তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে বিক্ষোভস্থলের একটি ভিডিও দেখিয়ে তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের হেনস্তা করতে দিল্লি পুলিশ আরএসএসের সদস্যদের ‘খোলা ছাড়’ দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকেও নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ভোট চুরির অভিযোগে যে আন্দোলন চলছে, তা থামবে না।
শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন অশান্তির ঘটনা সামনে আসে। সেই ঘটনার ভিডিও দেখিয়েই সোমবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারী তরুণদের মারধর করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে পুলিশকর্মীদের। অন্য দিকে, আন্দোলনকারীদের উপর হামলার ক্ষেত্রে আরএসএসের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর। যদিও রাহুলের এই অভিযোগের স্বাধীন ভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশি ধরপাকড় নিয়েও সরব হন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সত্ত্বেও গোটা দিল্লিকে কার্যত জেলখানায় পরিণত করা হয়েছে। তাঁর কথায়, গত ১২ বছরে মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। সরকার যত বেশি বাধা দেবে, আন্দোলন ততই এগিয়ে যাবে বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি, পুলিশের একটা বড় অংশ এই আন্দোলনকে সমর্থন করছে বলেও দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা। তবে এই দাবির সমর্থনে কোনও পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসেনি।
এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকেও আক্রমণ করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং নির্বাচন কমিশনের কয়েক জন আধিকারিক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করছেন। এসআইআর এবং ভোট চুরির অভিযোগের তদন্ত ও জবাবদিহির দাবিতেই বিরোধীদের আন্দোলন বলে জানান তিনি।
তবে ভোট চুরির অভিযোগের পক্ষে কী কী প্রমাণ রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে। রাহুল অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়েও তিনি সেই কথা জানিয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে, দিল্লির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এক দিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, অন্য দিকে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ রাজনৈতিক চাপানউতোর নতুন মাত্রা পেল। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে রাহুল বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই সংঘাত আপাতত থামার নয়।





