উত্তর ২৪ পরগনা, ১১ জুনঃ কাঁচরাপাড়ার একটি বেসরকারি স্কুলে পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। বুধবার গভীর রাতে চালানো অভিযানে স্কুলের একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে প্রায় ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং কম্পিউটার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাতভর চলে উদ্ধার হওয়া টাকার গণনা। তবে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কীভাবে স্কুলের একটি ঘরে জমা ছিল এবং তার উৎস কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে ভর্তি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস ও লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।
ইতিমধ্যেই ঘটনায় স্কুলের দুই কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এছাড়াও চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপ, প্রতারণা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে স্কুলের প্রিন্সিপাল বিকাশ চন্দ্র পাল দাবি করেছেন, এপ্রিল মাস থেকে জমা হওয়া ভর্তি ফি ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল অ্যাকাউন্টস বিভাগের। কেন সেই টাকা ব্যাঙ্কে জমা পড়েনি, তার উত্তর সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছেই রয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসা দরকার।
অন্যদিকে, তল্লাশির সময় স্কুলের সিক রুম থেকে কিছু কন্ডোমও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও এ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন প্রিন্সিপাল। তবে সিক রুমের আলমারি থেকে ওই সামগ্রী উদ্ধারের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ স্কুলের নয় এবং টাকার উৎস নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।





