কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ মাদ্রাসার দরজা বন্ধের তালিকা কি আরও দীর্ঘ হতে চলেছে? রাজ্য জুড়ে মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো, অনুমোদন, পরিচালন ব্যবস্থা এবং পড়ুয়া-শিক্ষকের তথ্য যাচাইয়ের পর প্রথম দফায় ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে পাঠানো হয়েছে শোকজ নোটিস। সেই নোটিসের জবাব খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ফলে বছরের শেষে বন্ধ হয়ে যাওয়া মাদ্রাসার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সমীক্ষা। জুনের শুরু থেকে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাঠপর্যায়ে মাদ্রাসাগুলির তথ্য যাচাই করা হয়। দেখা হয় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, পরিচালন ব্যবস্থা, পড়ুয়ার সংখ্যা, শিক্ষক-শিক্ষিকার তথ্য, পরিকাঠামো এবং অর্থের উৎস। জেলা প্রশাসনের রিপোর্টের পাশাপাশি রাজ্য স্তরের পরিদর্শক দলও একাধিক প্রতিষ্ঠান ঘুরে তথ্য যাচাই করেছে।
সরকারের বক্তব্য, যে সব মাদ্রাসার প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে এবং নিয়ম মেনে চলছে, সেগুলির ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ প্রযোজ্য নয়। বরং ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাব, অনুমোদন সংক্রান্ত সমস্যা, পড়ুয়া বা শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি এবং নির্ধারিত শিক্ষাক্রম থেকে বিচ্যুতির মতো বিষয় সামনে আসায় ২৫২টি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক ছবিতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মালদহে প্রায় ৪৪-৪৫টি, উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ৩৭টি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় প্রায় ২৫টি করে মাদ্রাসা বন্ধের তালিকায় রয়েছে।
এর পরের ধাপ শোকজ-প্রাপ্ত ১০০টি প্রতিষ্ঠান। তাদের বক্তব্য এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ আপাতত ‘বন্ধের তালিকা’ ২৫২-তেই থেমে থাকছে, নাকি আরও দীর্ঘ হচ্ছে তার উত্তর মিলবে পরবর্তী যাচাই-পর্বে।
মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর বক্তব্য, মাদ্রাসায় পড়ুয়াদেরও আধুনিক ও মূলধারার শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। একই সঙ্গে সরকারের তরফে বলা হয়েছে, নিয়ম মেনে চলা অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না।





